May a good source be with you.

ভোট কর্মীরা ক্ষুব্ধ: চাওয়া হলো নিরাপত্তা, দিতে চাইছে ক্ষতিপূরণ

কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে মোট ৩,৮৪৪ টি বুথের মধ্যে ১,৯৬৭টি বুথ স্পর্শকাতর।

পশ্চিমবঙ্গের মোট সাত দফা লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দিনে ১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠান। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের এই দুই কেন্দ্রে মোট ৩,৮৪৪ টি বুথের মধ্যে ১,৯৬৭টি বুথকে  স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক বুথ হলো স্পর্শকাতর।

কোচবিহারে ২,০১০ টি বুথের মধ্যে ১,১৫৩ টি এবং আলিপুরদুয়ারে ১,৮৩৪ টি বুথের মধ্যে ৮১৪ টি বুথ স্পর্শকাতর’ ধরা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে এই বুথ গুলি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। আর বাকি ১,৮৭৭টি বুথে রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপত্তা দেবে বলে জানানো হয়েছে।

কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী গোবিন্দ রায় জেলা বামফ্রন্টের কর্মীদের নিয়ে জেলা পুলিশের পর্যবেক্ষকের কাছে অভিযোগ জানান যে এই কেন্দ্রের ২,০১০ টি বুথের মধ্যে ৮৫৭ টি  বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী  থাকছে না। আবার যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী কে ভাগ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে শহর অঞ্চলেই তাদের বহাল করা হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যেখানে গোন্ডোগোল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি সে গুলিতে কোন কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়নি। ফলে আতঙ্কে আছেন ভোট কর্মীরা।

অন্যদিকে নতুন জেলা ঘোষিত হওয়ার পর আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে এই প্রথমবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬,৪৩,৬১৬ জন।

আলিপুরদুয়ার জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মৃনাল রায় জানান যে এই কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দাবি করেছিলাম, কারণ জেলা পুলিশ বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ। তাদের অধীনে ভোট হওয়া মানে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই হবে না। কারণ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোচবিহারের মতো কেন্দ্রে শুধুমাত্র লোক দেখানো নির্বাচন হয়েছে।

প্রচুর ভোট লুট হয়েছে চা বাগান এলাকা গুলি থেকে। রাজ্য পুলিশের উপর কোন ভরসা নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে তীব্র নিন্দা করেছেন আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী মিলি ওঁরাও।

রাজ্যে প্রথম দফার ভোটে কোচবিহার কেন্দ্রের উপর বিশেষ নজরদারির খবর পাওয়া যায় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিবেক দুবে। কোচবিহার থেকেই তিনি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট তদারকি করবেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে বিক্ষোভ দেখান সকল প্রকার ভোট কর্মীরা। জেলাশাসকের নিরাপত্তার পূর্ণ আশ্বাস পেয়ে ভোট কর্মীরা বুথে যাওয়া শুরু করেন।

শুধুমাত্র আশ্বাসের ভিত্তিতে ভোট করতে যাচ্ছেন ভোট কর্মীরা। যদিও পুরনো ইতিহাস ভুলতে পারছেন না কেউই। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সেই শিক্ষক রাজকুমার রায়, তার খুনের এখনো পর্যন্ত হদিস দিতে পারেনি কেউ। এদিকে আবারও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন ভোটের কাজে নিযুক্ত কোন কর্মীর যদি মৃত্যু হয় তাহলে তার পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর অঙ্গহানি হলে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।  বুধবার রাজ্যের অতিরিক্ত সিইও সঞ্জয় বসু এ কথা জানান।

নির্বাচন কমিশনার এহেন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভোট কর্মী থেকে শুরু করে তাদের পরিবারের লোকজন। চাওয়া হলো নিরাপত্তা, দিতে চাইছে ক্ষতিপূরণ, তাহলেই সাধারণ মানুষকে বুঝতে হবে কোন পথে চলছে সমগ্র রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+