May a good source be with you.

পশ্চিমবঙ্গ : রাজ্য সরকারের তুঘলকি ব্যবস্থাপনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষক মহল

সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে দু-মাস ছুটির ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে স্কুলছাত্রদের অসুবিধার  কথা মাথায় রেখে প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট সময়ে ছুটি দেওয়া হয় রাজ্যের স্কুলগুলিতে। প্রতি বছরের মতো এবারেও গ্রীষ্মের ছুটি দেওয়া হয়েছে সরকারি ও সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত স্কুলগুলিতে। কিন্তু এই ছুটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, এটা কি ধরনের সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের? সে শিক্ষক মহল হোক বা শুবুদ্ধি সম্পন্ন সাধারণ মানুষ।

গ্রীষ্মকালে গরমে প্রতি বছরই রাজ্য সরকার ছুটি দিয়ে থাকেন সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির পাশাপাশি শিক্ষকদেরও। তার উপর এ বছরে অতিরিক্ত সংযোজন প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাময়িকভাবে স্কুল বন্ধ হলেও দীর্ঘস্থায়ী কোন সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিতে পারেন না। কিন্তু রাজ্য সরকার এবারে সেটা করেছে। রাজ্যের এইসব স্কুলগুলিতে তাই দুমাসের ছুটির ঘোষণা করেন স্কুল শিক্ষা সচিবের একটি নির্দেশিকা। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়ে গেছে তুমুল বিতর্ক।

স্কুল শিক্ষা সচিব মণীশ জৈন একটি নির্দেশিকায় জানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ‘ফনী’ আর প্রচন্ড গরমের জন্য শুক্রবার ৩রা মে থেকে ৩০ শে জুন পর্যন্ত ছুটি চলবে রাজ্যের স্কুলগুলিতে। পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলবর্তী ৮ টি জেলার স্কুল পড়ুয়া ও শিক্ষকদের শুক্রবার ও শনিবার স্কুল যেতে হবে না বলে জানিয়েছেন।

স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান এই ছুটি শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের। অতিরিক্ত যে ছুটির দিন ধার্য করা হয়েছে সেগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যথারীতি স্কুলে হাজির হতে হবে। আই সি এস ই, সি বিএস ই স্কুলেও ছুটি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন রাজ্য সরকার।

বিগত দিনে গ্রীষ্মের ছুটি দেওয়া হতো ১৭ই মে থেকে ৫ই জুন পর্যন্ত। এবারে রাজ্য সরকার কি কারনে অতিরিক্ত এত দিন ছুটি দিল তাতে চিন্তিত শিক্ষক মহল। কারন স্কুলগুলিতে আগস্ট মাসে শুরু হবে দ্বিতীয় টার্মের পরীক্ষা। তার আগে টানা দু’মাস যদি ছুটি থাকে তাহলে পাঠক্রম কিভাবে শেষ করা যাবে এই নিয়ে চিন্তায় শিক্ষক শিবির। পাশাপাশি অতিরিক্ত ছুটিতে ছাত্রহীন স্কুলে শিক্ষকেরা কি করবেন এটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রাজ্য সরকারের দু’মাসের গ্রীষ্মের ছুটির সমালোচনা করে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পাইন বলেন, যে দুই ধরনের নির্দেশিকা স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে গ্রীষ্মের ছুটি উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে তা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। এমনিতেই এ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অপরদিকে এই ধরনের রাজ্য সরকারি সিদ্ধান্তে ছাত্র-ছাত্রীদের যে কতটা ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে চিন্তায় শিক্ষকেরা।

যেসব স্কুলগুলিতে প্রথম দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে এই সময়ে প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ছুটির কারণে তা আর করা যাবে না। তিনি এও জানান বেসরকারি স্কুল গুলিতে কর্তৃপক্ষ ঠিকই স্কুল খোলা রাখবেন। পঠন-পাঠনের দিকও সমানতালে এগিয়ে যাবে, পিছিয়ে পড়বে সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা। তিনি এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষাবিরোধী, ছাত্র বিরোধী বলে মনে করেন।

রাজ্য সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্তে  সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষা ব্যবস্থার মান যে কতটা নামতে পারে, ও ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যতে কতটা অসুবিধার মধ্যে পড়তে হবে এখন তারই চিন্তায় বুদ্ধিজীবীরা।

একদিকে রাজ্যে চলছে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে শুরু হয়ে গেছে এক উৎসবের মেজাজ। তাতে ব্যাহত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ। কারণ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করার জন্য নিয়ে নিয়েছেন বেশিরভাগ স্কুল। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশুনো। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের এই ধরনের বেশ কিছু তুঘলকি সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাজ্যের অগণিত ছাত্র ছাত্রী।

Support NewsCentral24x7 and help it hold the people in power accountable.
अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+