May a good source be with you.

দ্বিতীয় দফার ভোটে যে হিংসার চিত্র ফুটে উঠেছে তার প্রতিবাদে নির্বাচনী কমিশনের দফতরের সামনে সিপিএমের বিক্ষোভ

“নির্বাচন কমিশন আর কেন্দ্রীয় বাহিনী একসঙ্গে এই দুই দফা নির্বাচনের পাঁচটি আসনের কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারেন না, তাহলে কিভাবে ৪২ টি আসনের ভোট করবেন?” —সূর্যকান্ত মিশ্র।

রাজ্যের লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার সাথে সাথেই শুরু হয়ে গিয়েছে অশান্তি ও উৎশৃংখলের পরিবেশ সৃষ্টি। রাজ্যে মোট ৭ দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারই মধ্যে সপ্তাহ খানেক আগে হয়ে গেছে প্রথম দফা নির্বাচন।

প্রথম দফা নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে থেকে এবং পরেও নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে ভোট কর্মীর থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেরই একটাই অনুরোধ, নির্বাচনে যেন পুরোপুরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা থাকে, তা না হলে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট দানের ব্যবস্থা করা যাবে না। এই একই দাবি নিয়ে বামফ্রন্টের নেতা কর্মীরাও বিভিন্ন অভিযোগ, আন্দোলন ও লিখিত আকারে নির্বাচন কমিশনকে জানানো সত্ত্বেও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়।

যদিও প্রথম দফা নির্বাচনের থেকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের চিত্রটা আরো ভয়ঙ্কর। প্রথম দফা নির্বাচনে ছিল উত্তরবঙ্গের দুটি কেন্দ্র কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার, আর দ্বিতীয় দফায় ছিল জলপাইগুড়ি ,দার্জিলিং ও রায়গঞ্জ।

প্রথম দফা নির্বাচনের থেকেও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে যে কেন্দ্রগুলি ছিল তাদের মধ্যে বেশিরভাগ বুথই ছিল স্পর্শকাতর। তা সত্ত্বেও, নির্বাচন কমিশন পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললেও, পুরোপুরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বলয়ে রাখতে পারেননি।

বেশ কিছু স্পর্শকাতর বুথে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল আর তার থেকেই শুরু হয়েছে বিপত্তি। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের প্রায় কম বেশি তিনটি কেন্দ্রে ঘটে গেল বিক্ষিপ্ত বেশ কিছু দুর্ঘটনা।

দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জে তারই চিত্র ফুটে উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে। তাদের কাছে একটাই প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে সবে মাত্র পাঁচটি কেন্দ্রের নির্বাচনে যদি এই ঘটনা ঘটে, তাহলে পরবর্তীকালে কি ঘটতে পারে তার আশঙ্কায় আতঙ্কিত রাজ্যবাসী।

দ্বিতীয় দফার ভোটে উত্তরবঙ্গের তিনটি কেন্দ্রে, প্রথম দিকে ধীরগতিতেই শুরু হয়েছিল ভোট গ্রহণ। কারণ একটাই— নিরাপত্তা। কোথাও ভোট কর্মীরা নিরাপত্তার অভাবে ভোট কেন্দ্রে আসতে অনিচ্ছুক, আবার কোথাও ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে আসতে দিতে বাধা সৃষ্টি। এই নিয়ে যখন তিনটি কেন্দ্রে চরম আকার দেখা দিল, ঠিক সেই সময়ই রুখে দাঁড়ালো সাধারণ মানুষ। তারা নিজেরাই প্রতিবাদের ঝড় তুললো। রাস্তা অবরোধে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বিতর্ক করে সব মিলেমিশে যেন একটা গণ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করল সাধারণ ভোটাররা।

এদিকে কমিশনের মিথ্যা আশ্বাসের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ করে সতর্ক করলেন বামপন্থী সংগঠনের লোকজন। আসন্ন তৃতীয় দফার নির্বাচনে যদি এই ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে অন্য পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে বামপন্থী সংগঠন।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার ভোটে যে হিংসার চিত্র উত্তরবঙ্গের তিনটি কেন্দ্রে ফুটে উঠেছে তারই প্রতিবাদে এ দিন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন বামফ্রন্টের নেতারা। পাশাপাশি কমিশনের সামনে বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র তিনি জানান, “আমাদের কারোর প্রতি ভরসা নেই, যেখানে ভোটাধিকার থাকবে না সেখানে আমরা প্রতিবাদ করব।”

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ইসলামপুর গোয়ালপোখরে ও চোপড়ার যে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও সংঘর্ষের খবর সারা রাজ্যবাসী দেখলেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ব্যাপার। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও দফায় দফায় চোপড়ায় সংঘর্ষের ঘটনা দেখা গেল তৃণমূল ও বিজেপি গুন্ডা বাহিনীদের মধ্যে।

অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তারা সংঘর্ষের পথে নামে। চলে বোমাবাজি, গুলি, আর এই গুলিগোলাতে আহত হলেন সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্র। এলাকায় পুলিশি টহলের পাশাপাশি নামানো হয়েছে র‍্যাফ। এলাকার উত্তেজনা এখনো থমথমে।

সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের উপর অত্যাচার, সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে যাওয়াতে বাধা এবং সর্বোপরি রায়গঞ্জের সিপিআইএম প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিমের গাড়ির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। তারই প্রতিবাদে কলকাতার কমিশন দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান বামপন্থী সংগঠনের কর্মীরা।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, “নির্বাচন কমিশন আর কেন্দ্রীয় বাহিনী একসঙ্গে এই দুই দফা নির্বাচনের পাঁচটি আসনের কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারেন না, তাহলে কিভাবে ৪২ টি আসনের ভোট করবেন?” এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বামফ্রন্টের ৭ জনের প্রতিনিধি দল এদিন কমিশনের সঙ্গে দেখাও করেন।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+