May a good source be with you.

রাজ্যের চতুর্থ দফা নির্বাচনে বহু কেন্দ্রেই দেখা গেল না ১০০% কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা

বহরমপুর, বোলপুর, বীরভূম, আসানসোলের বহু ভোটকেন্দ্রেই দেখা গেল না কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

রাজ্যে শেষ হল চতুর্থ দফার নির্বাচন। যে পাঁচটি জেলার ৮ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হল, তাতে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় প্রতিটি বুথেই থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু শেষমেশ দেখা মিলল না বহু স্পর্শকাতর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর। ফলে দেখা গেল রাজ্য পুলিশের সহযোগিতায় শাসক দলের কর্মীরাই নির্বিচারে বেশ কিছু বুথে অবাধে চালিয়ে গেল তাদের আগণতান্ত্রিক নির্বাচনী কর্মসূচি।

যদিও এই চতুর্থ দফার নির্বাচনে কোন খুনের ঘটনার কথা শোনা না গেলেও, বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত গন্ডগোল, ঝামেলা ও মারামারির খবর শোনা গিয়েছে।

প্রথমেই আশা যাক বহরমপুরে। কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর কাছে খবর আসে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে। পাশাপাশি কোন বিরোধী এজেন্টকে সেই বুথে বসতে দেয়নি। তৎক্ষণাৎ খবর শুনে চৌধুরী পৌঁছে যান সেই কেন্দ্রে এবং নিজের তত্ত্বাবধানে, কোনরকম কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়াই এজেন্ট বসান এবং এক তৃণমূল দুষ্কৃতীকে আটক করেন। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে, তাকে ছুটে যেতে হয় বুথ জ্যাম ও ছাপ্পা ভোট আটকাতে। আর এই সব বুথগুলিতে দেখা মিলল না কোন কেন্দ্রীয় বাহিনীর।

এবার আশা যাক বীরভূমের দিকে। বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কেতুগ্রাম, আউসগ্রাম, মঙ্গলকোট ও বর্ধমানের রায়নার বিভিন্ন বুথ দখল ও ছাপ্পাভোটের নানান খবর পাওয়া যায় এদিন। বামপন্থীদের অভিযোগ চতুর্থ দফায় এই নির্বাচনে ৩০১টি বুথে এই ধরনের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ করেছে শাসক দলের কর্মী-সমর্থকরা। এদিনও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা উপস্থিত থাকলেও কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কেন্দ্রীয় বাহিনী। আবার কিছু কিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনো  উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। অর্থাৎ এই থেকে বোঝা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন যেভাবে গর্জালো,সেভাবে বর্ষালো না।

অন্যদিকে বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল কে নিয়ে তো একরকম নাটক করল নির্বাচন কমিশন। তাকে নজর বন্দি করা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা যে পুরোপুরি একটা প্রহসন তা প্রমাণ করে দিল অনুব্রত মণ্ডল। তার নিজের ফোন জমা দিয়ে দিলেও তাকে সব সময় ফোন করতে দেখা গেল অন্যদের ফোন থেকে এবং তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন তাকে আটকানো যাবে না। এর পরেও কোন ব্যবস্থা করলেন না কেন নির্বাচন কমিশন তার উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে আসানসোলের বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় কে নিয়েও বিভিন্ন ঘটনার ঘনঘটা লক্ষ্য করা গেল। অভিযোগ তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী বুথ দখল করে ছাপ্পা দিচ্ছে তার এলাকাতেই। যেখানেই এই ঘটনার কথা শুনছেন সেখানেই ছুটে যান এই বিজেপি প্রার্থী। আর তখনই তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে বিবাদ শুরু তার। বিক্ষোভের পাশাপাশি তার গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে এ দিন।

বারাবনি, জামুরিয়া, পাণ্ডবেশ্বর এলাকা ঘুরে  তৃণমূলি উপায়ে যে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি চলছিল তা সারাদিন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে গেলেন বাবুল সুপ্রিয়।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যে ভরসা সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা পেয়েছিলেন তা অনেকটাই আশাহত হতে হল চতুর্থ দফা নির্বাচনে। এই চতুর্থ দফার নির্বাচনে এই ৮ টি কেন্দ্রে প্রচণ্ড দাবদাহে উপেক্ষা করে গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচন কমিশনের ১০০% কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন কথা থাকলেও এ দিন নির্বাচনে বহু ভোটকেন্দ্রে দেখা মিলল না তাদের। বহরমপুর, বোলপুর, বীরভূম, আসানসোলের বহু ভোটকেন্দ্রেই দেখা গেল না কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

এই চতুর্থ দফা নির্বাচনে বেশ কিছু জায়গায় দেখা গেল সাধারণ মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে এগিয়ে এসেছেন সাহসের সাথে। তাই বামফ্রন্টের দাবি পরবর্তী নির্বাচনগুলিতে, কমিশন যেন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সজাগ হতেও আহ্বান জানান বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থক।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+