May a good source be with you.

কলকাতা: বিজেপি-তৃণমূলের দ্বন্দ্বে ভাঙ্গা পড়ল বিদ্যাসাগরের মূর্তি

দুই পক্ষের মধ্যে ইট ছোঁড়াছুঁড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলেজের বহু জিনিস।

রাজ্যে সপ্তম দফা নির্বাচনের প্রাকমুহুর্তে  কলকাতা শহরের বেশ কিছু এলাকায় হঠাৎ দেখা দিল সংঘর্ষের চেহারা। শেষ দফার নির্বাচনী প্রচারে তুমুল তান্ডব দেখালেন বিজেপি ও তৃণমূল দলের কর্মী-সমর্থকরা। আর তাদের রোষে পরেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হল কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বর্ণপরিচয়ের স্রষ্ঠা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি।

ঘটনার সূত্রপাত শুরু হয় মঙ্গলবার ধর্মতলায় বিজেপির অমিত শাহের রোড শো কে কেন্দ্র করে। কলকাতার বুকে ধর্মতলার উপর দিয়ে অমিত শাহের এক বিশাল আকারের রোড শো এদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যেতে শুরু করে। আর সেখানেই শুরু হয় গন্ডগোল।

অমিত শাহের রোড শো কে আটকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারা কালো পতাকা দেখিয়ে তাদের রোড শো কে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান লেখা পোষ্টার দেখান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। আর সেখানেই শুরু হয় বিপত্তি, বিজেপির এই জমকালো রোড শো তে উপস্থিত ছিলেন বহু বহিরাগত দুষ্কৃতী। এই বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে টিএমসিপির সদস্যদের শুরু হয় গন্ডগোল, তারপরই হাতাহাতি।

এই ঘটনা যখন শুরু হয় তখন সেই রোড শো এর সামনের অংশ আটকে পড়ে বিধান সরণিতে বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ঘটনার খবর তাদের কাছে পৌঁছাতেই অন্যান্য বিজেপি সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে শুরু করে চরম বিশৃঙ্খলা, উন্মত্তের মতো ছুটে যায় বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতরে। শুরু হয় কলেজের সামনে টিএমসিপি ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষ। দুই পক্ষের মধ্যে ইট ছোঁড়াছুঁড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলেজের বহু জিনিস।

এদিন সন্ধ্যায় যখন এই গন্ডগোল সংঘর্ষের চেহারা নিয়েছে তখন বিদ্যাসাগর কলেজে চলছিল সন্ধ্যাকালীন ক্লাস। এই সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছুটে আসে ছাত্রছাত্রীরা। দুই পক্ষের মধ্যে চলে প্রচণ্ড সংঘর্ষ। কলেজ ক্যাম্পাসে ভাঙচুর হয় আসবাপত্র, গেট সর্বোপরি কলেজের সামনে থাকা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ও ছাড় পায়নি এদিন। এই ঘটনায় ৬ জন আহত হয়েছেন তার মধ্যে ৪জনের মাথা ফেটে যায় বলে জানা যায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে লাঠিচার্জ করেন। এদিনের এই দুই দলের রাজনৈতিক সংঘর্ষের মধ্যে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা কে নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।

বিজেপি অমিত শাহ অবশ্য বলেছেন পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে ভুল তথ্য দিয়েছে এ রোড শো করার বিষয়ে। তিনি পুলিশ প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন এই ঘটনা।অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচনে যোগ্য জবাব দিতে হবে বলে জানিয়ে দেন, পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলেন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।

সাধারণ মানুষের কথাই ভিন রাজ্যের বহু লোক যাদের কলকাতা ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর সম্পর্কে কোন ধারণা নেই, তারাই এই ধরনের লজ্জাজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন। তৃণমূল ও বিজেপির বহু বহিরাগত যাদের এ সম্পর্কে কোন ধারণা নেই তারাই এই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে কলকাতার ঐতিহ্য কে নষ্ট করেছেন। এই ঘটনায় সিপিআই(এম) এর রাজ্য কমিটির সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন “তৃণমূল ও বিজেপি এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে মেরুকরণের রাজনীতি করে মানুষকে ভাগ করতে চাইছেন। এই পরিস্থিতিতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখা শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার দায়িত্ব বামপন্থীদের নিতে হবে।” এজন্য তিনি কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ধিক্কার মিছিল এর ডাক দিয়াছেন।

Support NewsCentral24x7 and help it hold the people in power accountable.
अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+