May a good source be with you.

নরেন্দ্র মোদি জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে মিথ্যা আত্মবিশ্বাস প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন: সন্ত্রাসবাদী হামলা ১৭৬% বৃদ্ধি পেয়েছে ২০১৪-২০১৮ সালে

২০১৪-২০১৮ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিরাপত্তা কর্মীদের মৃত্যু ৯৩% বেড়েছে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে মিথ্যা আত্মবিশ্বাস প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন। শুক্রবার, ৬ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় এরকমই একটি সমাবেশে তিনি মিথ্যা দাবি করেছেন যে গত পাঁচ বছরে দেশে কোন সন্ত্রাসী হামলার ঘটণা ঘটেনি।কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টো। দেখে নেওয়া যাক সরকারী তথ্য কি বলছে —

২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, মোদির নেতৃত্বে বিজেপির সরকার কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-২০১৮ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিরাপত্তা কর্মীদের মৃত্যু ৯৩% বেড়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৪৭ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়, সেখানে ২০১৮ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১।

একইভাবে, সন্ত্রাসবাদী হামলার সংখ্যা ১৭৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে ২২২ টি ঘটনা ঘটেছিল, ২০১৮ সালে ৬১৪ টি সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটে।সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনার সংখ্যা এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পর ও মোদি সরকার অযৌক্তিকভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার মিথ্যা দাবী করে, শুধু তাই না, বিরোধীদের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকেও নির্লজ্জ ভাবে আক্রমণ করে।

প্রধানমন্ত্রী আমরোহায় দাবি করেছেন যে গত পাঁচ বছরে দেশে কোন সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়নি। “বোমা এবং বন্দুকের গুলির আওয়াজ শোনা যায়নি । কোনো সাধারণ মানুষের জীবন হানি ঘটে নি । কারণ দিল্লিতে একজন চৌকিদার বসে আছেন এবং সন্ত্রাসীরা জানে যে যদি তারা একটিও ভুল করে তবে মোদি তাদের পাল্টা জবাব দেবে। ”

কিন্তু তথ্য বলছে, যে এই চার বছরে, জম্মু ও কাশ্মীরে ১,৭০৮ টি সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ২৮টি সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে।

গত বছর, বিজেপি নেতা মুরিলি মনোহর যোশির নেতৃত্বে গঠিত ১৬ সদস্যের সংসদীয় কমিটিই বলেছে, যে, মোদির সরকারের অধীনে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাল বিপজ্জনকভাবে অধ:পতিত হয়েছে।

নিউজ সেন্ট্রাল ২৪x৭ এ প্রকাশিত স্বাতী চুত্তবেদীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী-প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সংগ্রহের প্রস্তুতির গণনার জন্য গঠিত কমিটির ২৯ তম রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, “মোদি সরকার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপেক্ষা করছে এবং অদূরেই এর প্রভাব খুব ভয়ংকর হতে পারে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, “… আজ জিডিপির মাত্র ১.৬%  প্রতিরক্ষাখাতে খরচ করা হচ্ছে, শতাংশের ভিত্তি তে তা ১৯৬২ সালের আগে খরচ করা হতো, তাই এর কুপ্রভাব যে খুবই ভয়ঙ্কর তা খুবই স্পষ্ট।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে, ওই কমিটি জোর দিয়ে যে বিষয়টি স্পষ্ট করে বার বার বলেছেন তা হল, ” সরকারের উচিত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় মূলধন বিনিয়োগ করে আমাদের বাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ার কাজ করা। ”

বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ও পুর্বতন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি, সংসদে অভিযোগ করেছেন যে, ১২৬ টির জায়গায় মাত্র ৩৬ টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি করেছে। এই নিয়ে তিনি সংসদে একটি সংসদীয় যুগ্ম কমিটি (জে.পি.সি.) তৈরী করে তদন্তের ও দাবী জানিয়েছেন। তিনি এও বলেন যে, “প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ নিয়ম লঙ্ঘন করে ও প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিলকে বাইপাস করে প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্যায় তো করেছেন ই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা কে বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।”

অন্যদিকে পুলওয়ামার জাইশ-ই-মোহাম্মাদ (জেএম) নামক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু । মোদি সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটণার নিন্দা করে কঠোর প্রতিশোধের কথা বললেও, প্রশ্ন থেকেই যায়, যেখানে আগে থেকেই এইধরনের হামলার সম্ভাবণার কথা ভারতের গোয়েন্দা দপ্তর সরকারকে জানিয়েছিল, সেখানেও কেন এই সন্ত্রাসবাদী হামলা রোখা গেল না?

পুলিশের এক উচ্চপদস্থ অফিসার এর প্রতিবেদক কে জানান ” গত দশ দিন ধরে আমরা আত্মঘাতী ধর্মঘট সম্পর্কে যেভাবে সতর্কবার্তা পেয়েছি, তা আমরা আগে কখনো পাইনি। আমরা বুঝতে পেরেছি যে তারা একাধিক আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যা আমাদের কাছে খুবই চিন্তার বিষয় ও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল ।”

তার পরেও ঠিক ওই দিনের ওই হামলাকে কেন আটকানো গেল না ? তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, গোয়েন্দা ব্যর্থতা নাকি সরকারের অবহেলার কারণেই এই ঘটণা ঘটলো ?

এছারাও উদাহরণ স্বরুপ উল্লেখযোগ্য, জুলাই ২০১৫-এ, পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর শহরের দিনা নগরে, পুলিশ সুপার (এসপি) সহ সাতজনকে হত্যা করে তিন সন্ত্রাসবাদী। তার পর জানুয়ারী ২০১৬, সন্দেহভাজন জাইশ-ই-মোহাম্মাদ সন্ত্রাসীরা পাঞ্জাবের, পাঠানকোটে একটি বিমানবাহিনীর বেস আক্রমণ করে।

আগস্ট ২০১৬, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অফ বোডোল্যান্ড (সাংবিজিৎ) ও এনডিএফবি (এস) এর সাথে যুক্ত জঙ্গিরা আসামের কোকারজারের সাপ্তাহিক বাজারে ১৪ জন অসহায় নাগরিককে হত্যা করেছিল। সেপ্টেম্বর ২০১৬, সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর সবচেয়ে ভয়ানক আক্রমণ দেখা যায় জম্মু ও কাশ্মীরে উড়িতে। সেখানেও জাইশ-ই-মোহাম্মদের সাথে যুক্ত জঙ্গিরা ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে হামলা করে ও ১৯ জন সৈন্য শহীদ হন। জুলাই ২০১৭, কাশ্মীরের অমরনাথ পরিদর্শন করতে যাওযার পথে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি বাসকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় জঙ্গিরা। সাতজনের মৃত্যু হয় সেই হামলায়। এরকমই আরও অনেক ঘটণার কথাই মনে করিয়ে দেওয়া যায় ।

তাই প্রধানমন্ত্রী মুখে যতই দাবী করুন যে, তার মতো চৌকিদার থাকায় দেশে কোনো সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটেনি বা ঘটবে না, বাস্তব তথ্য বলছে, তা সর্বৈব মিথ্যা এবং স্পষ্টতই তিনি চৌকিদারি তে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ । বরং তার নেতৃত্বে দেশের প্রতিরক্ষা আরও বিপদের মুখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+