May a good source be with you.

ভোট কর্মীদের দাবী ১,৮১৯টি বুথে অন্ততপক্ষে ৮০ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী চাই

রাজ্যের দ্বিতীয় দফা ভোট ১৮ই এপ্রিল— জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জ কেন্দ্রে।

প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হলেও আতঙ্কের দিন কাটেনি ভোট কর্মীদের। তাদের দাবি ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা না পেলে তারা ভোট করতে যাবেন না। শেষমেষ প্রশাসনিক ভাবে আশ্বাসের পর ভোট করতে গিয়ে নিরাপত্তার ঢিলেঢালা ব্যবস্থা দেখে ফের আতঙ্কিত ভোট কর্মীরা।

তারা বুঝতে পারছেন রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনারের যৌথ সিদ্ধান্তে এ ধরনের ঘটনাগুলি ঘটছে। রাজ্যের প্রথম দফা নির্বাচনে ১১ ই এপ্রিল হয়ে যাওয়া আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে যে ঘটনাগুলি সাধারণ মানুষের চোখের সামনে উঠে এসেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমানে রাজ্য সরকারের তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা যেভাবে ভয় দেখিয়ে ও জোর জুলুম করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট করাচ্ছেন তাতে সাধারণত গণতন্ত্রের গলা চেপে ধরা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এছাড়াও এ ধরনের কর্মসূচিতে বিরত থাকছেন না তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রীরাও।

রাজ্যের দ্বিতীয় দফা ভোট ১৮ই এপ্রিল— জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জ কেন্দ্রে। দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে ভোট কর্মীদের লাগাতার আন্দোলন ও বিক্ষোভ। ‘নো সেন্ট্রাল ফোর্স, নো ভোট’, এই দাবি তুলে বিভিন্ন জায়গায় সরব হচ্ছেন ভোট কর্মীরা কারণ প্রথম দফার নির্বাচনে কোন আশানুরূপ ফল তারা দেখতে পাননি, তাই আবারো দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে লাগাতার বিক্ষোভ আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন বিভিন্ন ভোট কর্মীরা। তার ওপর কেন্দ্র যখন জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গেঞ্জর মত এলাকা, যার পুরনো স্মৃতি এখনো মুছে ফেলতে পারেনি কেউ । কারণ এই রায়গঞ্জের মাটি থেকেই ভেসে আসে সেই  রাজকুমার রায়ের কথা।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের উত্তর দিনাজপুরের  এক হাই মাদ্রাসার ইংরেজির শিক্ষক, ইটাহার ব্লকের সোনারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথ থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়, পড়ে রায়গঞ্জের সোনাডাঙির রেল লাইনের ধারে থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহটি পাওয়া যায়। আর সেই ঘটনা আবারো জীবিত করে তোলে ভোট এলেই, আতঙ্কিত তার বাবা-মা একথাই বলে নিরাপত্তা যেন ঠিকঠাক দেওয়া হয়। কারণ আর কোন মায়ের বুক থেকে যেন তার ছেলে না হারায়।

এবারও ভোট দিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন রাজকুমারের বাবা ও মা। পশ্চিমবঙ্গের ভোট যে কোন জায়গায় নিয়ে এসেছে বর্তমান তৃণমূল সরকার ও তার দল, তারই মর্মান্তিক দৃশ্য ফুটে উঠেছিল। রাজকুমারের এই ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আর সে কারণেই উত্তরবঙ্গের এই তিনটি কেন্দ্রের অধিকাংশ বুথ রয়েছে যেগুলি অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। আর সেই অতি স্পর্শকাতর বুথ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দিতে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছে ভোট কর্মীরা। তাদের এই দাবিকে কিভাবে দেখছেন নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বর্তমান রাজ্য সরকার তা এখন দেখার বিষয়।

রায়গঞ্জের শিক্ষক সংগঠনের প্রিয়রঞ্জন পাল জানান যে প্রথম দফা নির্বাচনে যা দেখলাম তা আরও আশাপ্রদ নয়। অনেক জায়গাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়ার কথা থাকলেও, তা ছিল না। ভোট কর্মীরাও ভোট লুটেরা বাহিনীর পুটকির মধ্যে পড়েছেন, তাই নিশ্চিত ভাবে জানাতে হবে যে তারা কেন্দ্রীয় বাহিনী দেবেন কিনা। আর যদি না দেন, তাহলে ততদিন পর্যন্ত বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে।

তাছাড়াও এদিন রায়গঞ্জে নিজের ভোট নিজে দিতে, সম্পূর্ণ নিরাপত্তা চাই— এই দাবি তুলে সকল স্তরের মানুষ মানববন্ধনে সামিল হয়।পাশাপাশি জলপাইগুড়ি কেন্দ্র ট্রেনিং বয়কট করেছেন প্রায় হাজারখানেক ভোট কর্মী। তাদের দাবি — ১৮১৯টি বুথে অন্ততপক্ষে ৮০ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী চাই, সব বুথের নিরাপত্তায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মোট ২৮ কোম্পানির বাহিনী এসেছে।

অন্যদিকে কর্মীদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়নি তাই অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়েছেন নির্বাচন কমিশন। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এলেও সন্ত্রস্ত এলাকায় তা ব্যবহার না করার অভিযোগ উঠেছে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে। দার্জিলিং কেন্দ্রের  সুজলি,লক্ষ্মীপুর, গোবিন্দপুর, চোপড়া, মাঝিয়ালীর মত সমস্ত এলাকায় কোনো রুট মার্চ হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় সিপিআই(এম)কে প্রচার করতে দেয়া হচ্ছে না। তৃণমূল দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ দিক সে দিক, চুপ করে বসে আছে পুলিশ! বাহিনীকে লক্ষ্মীপুর হাই স্কুলের মাঠে রাখা হয়েছে।

প্রথম দফায় ভোট গ্রহণে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট সিপিআই(এমে)র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তৃণমূল ও বিজেপি যেভাবে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে সাম্প্রদায়িকতা করছে এবং তার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে মেরুকরণ ঘটাচ্ছে তার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন তাদের রাজনীতিটাই এমন যে পরস্পরকে শক্তি জোগায় তারা। নির্বাচনের গোপন সমঝোতা করবে, এতে আশ্চের্যর কি আছে?

সোমবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরি। নির্বাচন কমিশনের প্রতি দেশবাসীর প্রত্যাশা কিন্তু প্রথম দফার ভোটে যা দেখা গেছে তা সন্তোষজনক নয়। বাংলার নির্বাচনে শাসকদলের হামলা ঘটেছে, এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে, ভোটারদের বাধা দিতে এবং বন্ধ করে ভোট চালানো হয়েছে।কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখা মেলেনি। এই যদি ঘটে তাহলে মানুষ কিভাবে ভোট দেবে?

 

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+