May a good source be with you.

রাজ্যের দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে কমবেশি তিনটি কেন্দ্রেই বিক্ষিপ্ত অশান্তি

জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং রায়গঞ্জ এ দেখা গেলো পথ অবরোধ, বিক্ষোভ, হুমকি, মারধোর ও গাড়ি ভাঙচুর।

রাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচনে কিভাবে শাসকদলের কর্মীরা গণতন্ত্রকে গলা চেপে ধরে, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কে দমিয়ে রেখে, যে নির্বাচন করেছিল তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল বামফ্রন্ট। আর নির্বাচন কমিশনকেও এই বিষয়ে জানানো হয়েছিল। তারপরেও নিরাপত্তার কোনরকম সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় একই চিত্র দেখা গেল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে। আর এই দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে শুরু থেকেই দেখা গিয়েছে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা।

মাত্র ৭ দিন আগেই শেষ হয়েছে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। আজ গোটা দেশ জুড়ে চলছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। আর এই দফায় পশ্চিমবঙ্গের যে তিনটি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট হয়েছে সেগুলি হল— জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং রায়গঞ্জ। আর এই তিনটি আসনের লড়াই চলছে রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে বিজেপি, কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের।

জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বিজয়চন্দ্র বর্মন, বিজেপির জয়ন্ত কুমার রায়, কংগ্রেসের মনিকুমার দার্নাল এবং সিপিএমের প্রার্থী ভগিরথ চন্দ্র রায়।

দার্জিলিঙে রয়েছে তৃণমূল প্রার্থী অমর সিং রাই, বিজেপির রাজু বিস্তা, কংগ্রেসের শংকর মালাকার, সিপিআইএেমর প্রার্থী সমন পাঠক।

অন্যদিকে রায়গঞ্জে সিপিআইএমের প্রাক্তন সাংসদ মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে তৃণমূলের কানাইয়ালাল আগরওয়ালের মূল লড়াই। এছাড়াও কংগ্রেসের দীপা মুন্সী ও বিজেপির দেবশ্রী চৌধুরী আছেন এই কেন্দ্রে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে, উত্তরবঙ্গের দিকে সকাল থেকেই সবাই তাকিয়ে। আর তারই মধ্যে ঘটে গেল বেশ কিছু ঘটনা। সকালে ভোট শুরুর সাথে সাথেই দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের চোপড়া তে যখন ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, তখনই দেখা গেল ভোটারদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মীদের গন্ডগোল। কারণ জানতে চাইলে ভোটাররা বলে সকালে যখন তারা ভোট দিতে আসছিলেন সেই সময়ই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের পথ আটকায়। ভোট দিতে যেতে বারণ করা হয় তাদেরকে এবং কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় ভোটাররা নৈনিতাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখলে ঘটনাস্থলে র‍্যাফ নামানো হয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে ভোটারদের আশ্বাস দিয়ে ভোট দিতে যেতে বলেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীকে আটক করে পুলিশ। এছাড়াও  এদিন দার্জিলিং এর মালবাজার এলাকায় বিজেপিির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।

দার্জিলিঙে চোপড়ার পাশাপাশি একই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে। ভোটারদের কে ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হয়, তাদেরকে হুমকি দিয়ে মারধোর করে চলে যেতে বলা হয়। এইসব অভিযোগ উঠছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যমের কাছে এই নিয়ে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস প্রার্থীর দীপা দাশমুন্সি।

একইভাবে রায়গঞ্জের ইসলামপুরের এক প্রাথমিক স্কুলে ভোট চলাকালীন খবর আসে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বুথ দখল করেছে। সেই ঘটনা শোনা মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় সিপিআইএম প্রার্থী তথা প্রাক্তন সাংসদ মোহাম্মদ সেলিম।

ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো মাত্রই দুষ্কৃতীরা আস্তে আস্তে বুথ থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে। ভোটকেন্দ্রের কারচুপিতে বাধা দেওয়ার জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদ সেলিমের গাড়ির উপর চড়াও হয় এবং ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় বেশ কিছুক্ষণ ভোট কেন্দ্রে আটকে পরেন মোহাম্মদ সেলিম। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় তাকে বাইরে নিয়ে আসা হয়।

রাজ্যের দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে কমবেশি তিনটি কেন্দ্রেই বিক্ষিপ্ত অশান্তি চোখে পড়েছে ।প্রথম দফার পর দ্বিতীয় দফা তে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। তাদের চিন্তা একটাই তারা কি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন? এরকম ভাবেই কি অত্যাচার ও দুর্নীতির মোকাবিলা করে যেতে হবে? কি করছে প্রশাসন আর নির্বাচন কমিশনের দেওয়া কেন্দ্রীয় বাহিনী? মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা তুলে ধরার মত জায়গা কি তৈরি করা যাবে না? এরপরেও কি এই নির্বাচনী কর্মসূচিকে পুরোপুরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আনতে পারবে না নির্বাচন কমিশন?

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+