May a good source be with you.

পশ্চিমবঙ্গ: রাজ্যে উত্তর থেকে দক্ষিণ শাসকদলের সন্ত্রাসের কবল থেকে মুক্তির পথে লাল পতাকা

বামফ্রন্টের দলীয় কর্মীরা তাদের কার্যালয়গুলি, সাধারণ মানুষের সহযোগিতায়, এবার আস্তে আস্তে ফিরে পেতে চলেছে।

পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের আশানুরূপ ফল না হলেও শাসকদলের দম্ভ ও অহংকার কে একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে রাজ্যের এই সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল। যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, রাজ্যের বর্তমান শাসক দল নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও নির্বাচনকালীন যে সন্ত্রাস চালিয়েছেন তাতে তারা ভেবেই নিয়েছিলেন তাদের আকাশছোঁয়া ফল হবে। কিন্তু শেষমেশ দেখা গেল জনগণের রায়ে আঁতকে উঠলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এত টাকা খরচ, এত হুমকি, এত ভয় দেখানো, ভোট দিতে না দেওয়া, বাড়িতে ঢুকে হুমকি, বাড়ি ঘর ভেঙে দেওয়া, বিরোধী দলের কর্মী, নেতা ও প্রার্থীকে মারধর কোন কিছুই বাদ দেয়নি শাসক দল নির্বাচনী বৈতরণী পার করার লক্ষ্যে। কিন্তু শেষে ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অনেকটাই হতবাক হয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

আবার অন্যদিকে এই লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া শাসকদল যে অত্যাচার ও অন্যায় ভাবে সন্ত্রাস চালিয়ে বিরোধী দল ও বামফ্রন্টের দলীয় কার্যালয়গুলি দখল করেছিলেন, তা এবার আস্তে আস্তে বামফ্রন্টের দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় ফিরে পেতে চলেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ একটার পর একটা পার্টি অফিস বামফ্রন্টের দলীয় কার্যালয় আবার নতুন করে লাল পতাকা উড়তে দেখা যাচ্ছে। শাসকদলের সন্ত্রাসের ভয় কে উপেক্ষা করে দলীয় কর্মী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসছেন, যাতে লাল পতাকা আবার পুনরায় স্বমহিমায় ফিরে আসে।

উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে দক্ষিণবঙ্গের শ্রীরামপুরে শুরু হয়ে গেছে তৃণমূলের দখলে থাকা সিপিআইএমের পার্টি অফিসগুলিকে পুনরায় তাদের দখলে নিয়ে লাল ঝান্ডা টাঙিয়ে দেওয়ার কাজ। তাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

কোচবিহারের দিনহাটায় ২০১৬ সাল থেকে শাসকদলের সন্ত্রাসের কবলে পড়ে বে-দখল হয়ে গিয়েছিল বামফ্রন্টের তিনটি কার্যালয়। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিন, রাত্রে সেই পার্টি অফিসগুলিকে পুনরায় দখল করেন সিপিআইএমের কর্মী-সমর্থকরা। তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করেন স্থানীয় লোকজন।

শুধু দিনহাটায় নয় কোচবিহারে মাথাভাঙাতেও দেখা গেল একই ঘটনা। বীরভূমের ময়ূরেশ্বর এর ২ নম্বর ব্লকের সিপিআইএমের পার্টি অফিসকে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার দখল করলেও সিপিএম তারপর উদ্ধার করে। তারপর বিধানসভা নির্বাচনের পর পুনরায় শাসকদলের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আক্রমণের পথে নেমে আসে তৃণমূলের কর্মীরা। আবারো দখল করে নেয় সেই পার্টি অফিস। এদিন স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বামফ্রন্টে কর্মী-সমর্থকেরা খুলে ফেললো জোনাল কার্যালয়ের অফিস। স্থানীয়় লোকজন চাঁদা তুলে প্রাথমিক মেরামতির কাজটা করে দিলেন দলীয় কার্যালয়ের। এরকম একইভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু এলাকাতেই দেখা গেল তৃণমূলের কবলে থাকা দলীয় কার্যালয়গুলিকে একর পর এক বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থকরা পুনরায় দখল করে তাতে লাল ঝান্ডা লাগানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+