May a good source be with you.

লোকসভা নির্বাচনের প্রচার: যুবকদের ঘরে ফেরার দাবিতে বামফ্রন্ট

যে সব এলাকা গুলি এই ধরনের শিক্ষিত বা অশিক্ষিত ছেলেরা কাজের আশায় ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র। 

সারা রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে 2019 এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচার। আর এই প্রচার এর মধ্যে দিয়েই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের এলাকার জনগণের স্বার্থে কি কাজ কর্ম করেছে, ভবিষ্যতে কি কাজ কর্ম করবেন তাই নিয়ে জনসাধারণকে বোঝাতে বেরিযে পরেছেন । বোঝানোর পাশাপাশি তাদেরকে আবেদন করছেন তাদের দলকে ভোট দিতে, তাদের নির্বাচিত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো যদিও তার ভাষণে বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াচ্ছেন যে রাজ্যে প্রচুর বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে, প্রচুর শিক্ষিত ছেলের চাকরি ওনারা দিয়েছেন। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে পশ্চিমবঙ্গের বুকে বেশ কিছু জায়গা থেকে লাখ লাখ ছেলে ভিন রাজ্যে কাজের আশায় ছুটে যায় কেন ? যে সব এলাকাগুলি এই ধরনের শিক্ষিত বা অশিক্ষিত ছেলে কাজের আশায় ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র। 

জঙ্গিপুরে 1999 এ বামফ্রন্টের সি পি আই (এম) প্রার্থী আবুল হাসনাত খান সংসদ হন। এরপর 2004 সাল থেকে জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাংসদ, তথা দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের এক বরিষ্ঠ নেতা প্রণব মুখার্জির লোকসভা কেন্দ্র ছিল।পরে তার ছেলে অভিজিত মুখার্জি 2012 সাল থেকে জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদের জায়গা দখল করে আছেন। কিন্তু  এ জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রেে যদি এত বছর ধরে  ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তাদের উন্নয়ন বা কাজ করে থাকেন তাহলে বেকার যুবককে রাজ্য থেকে বেড়িয়ে ভিন রাজ্যে কাজের আশায় যেতে হয় কেন? এরই প্রতিবাদে এবারের জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড়ানো বামফ্রন্ট প্রার্থী জুলফিকার আলী সাহেব নড়েচড়ে বসেছেন। তিনি তীব্র প্রতিবাদ  জাানিয়ে বলেন শাজাহাদপুর, বহুরুল, সন্দেশখালি প্রভৃতি জায়গায়  সংখ্যালঘু ভাইদের আধিক্য জঙ্গিপুরে বেশি। আর তাদেরই প্রায় লক্ষাধিক  বেকার যুবক শিক্ষিত বা অশিক্ষিত যাই হোক না কেন, এ রাজ্য ছেড়ে ভিন রাজ্যে, ছোট হোক বড় কাজের আশায় বেরিয়ে যেতে হচ্ছে। 

যদি বর্তমান সরকার কিংবা বিগত বছর ধরে যে সাংসদ এখানে ছিলেন তারা যদি উন্নয়ন করে থাকেন তাহলে কেন তাদের এলাকার ছেলেদের বাইরে যেতে হচ্ছে, কেনই বা বহরমপুরের পাসপোর্ট অফিসের সামনে ভিড় দিনের পর দিন বেড়েই চলছে।কেনই বা লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে কাজের সন্ধানে পারি দিচ্ছে। আর তারই মধ্যে সেখান থেকে বেশ কিছু অসাধু লোকের সান্নিধ্যে পড়ে বহু যুবক প্রতারিত হচ্ছে। 

এছাড়াও গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট না করেও পঞ্চায়েত দখল করেছে তৃণমূল সরকার। এলাকার বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে— সে গাছ কাটা হোক, বা জমিজমা নিয়ে যেকোন বিবাদের জেরে জোর-জুলুম করে তৃণমূল কর্মীরা তাদের বাহুবল প্রদর্শন করছেন । আর কথায় কথায় উন্নয়নের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের মাথায় হাত বোলাচ্ছেন বর্তমান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী যে কর্মসংস্থানের দাবি তুলে কথা বলেন তার পরিণতি যদি এই হয় তাহলে ভবিষ্যতে এসব জায়গা গুলি প্রায় যুবক শূন্য হয়ে পড়বে। এরপরেও নাকি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অভিজিৎ মুখার্জি দাবি করেন প্রায় ১.৫ লক্ষ যুবক আসবেন তাকে ভোট দিতে। তিনি এও বলেন এখানে প্রতিদ্বন্দ্বীতা শুধুমাত্র কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের।তাহলে তাই যদি হয় তবে বর্তমান সরকার কিভাবে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন জঙ্গিপুরের মানুষের উপর? এটাই কি উন্নয়ন!

এসব বিভিন্ন কারণের জন্য বামফ্রন্টের এ বছরের প্রার্থী জুলফিকার আলী সাহেব গ্রামে গঞ্জে ঘুরে, রাস্তায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিটিং মিছিল করে সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছেন তাদের ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। সর্বোপরি যে সমস্ত ছেলেরা বাইরে শ্রমিকের কাছে নিযুক্ত আছেন তাদেরকে এই রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার দৃঢ় পরিকল্পনা নিয়েছেন এবারের জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের সিপিআইএম প্রার্থী জুলফিকার আলী সাহেব। 

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+