May a good source be with you.

পশ্চিমবঙ্গ: সরকারি কর্মীরা বেশিরভাগই তাদের কাজ থেকে নিষ্কৃতি পেতে চায়

উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক অরবিন্দ কুমার মিনা জানিয়ে দিয়েছেন ভোটের কাজে না গেলে শিক্ষকদের বেতন কাটা হবে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অবস্থা এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে এবারের লোকসভা নির্বাচনে কোন জায়গা স্পর্শ কাতর  হিসাবে চিহ্নিত করতে গিয়ে কাকে বাদ দেবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না বিশেষজ্ঞমহল রাজ্যে তৃণমূল সরকার ছাড়া বিরোধী প্রায় সব দলই রাজ্যের সমস্ত বুথকে স্পর্শ কাতর হিসাবে মনে করছেন

বিগত দিনে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবারের লোকসভা নির্বাচনে এক নতুন মোড় দেখা দিয়েছে, তা হল সরকারি কর্মীরা বেশিরভাগই তাদের কাজ থেকে নিষ্পত্তি পেতে চায় তাদের ভোটের কাজ করতে বা নির্বাচনী কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে একেবারে ইচ্ছা নেই কারণ একটাই নিরাপত্তার অভাব। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটের কাজ করতে চাইছেন এমন সরকারি কর্মীর সংখ্যা নাই বললেই চলে বরং কাজ থেকে অব্যাহতি চাইছেন অনেকেই বেশিরভাগ শিক্ষকও শিক্ষাকর্মী বক্তব্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছাড়া তারা নির্বাচনে যেতে রাজি নন এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে বিতর্ক সকল প্রকার ভোটকর্মীরা যারা ভোটের কাজে নিযুক্ত হন তারা জানান প্রশাসন যদি নিরাপত্তার আশ্বাস দেন তাহলে তারা কাজ করতে রাজি আছেন, আর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তার জন্য রাখতে হবে এমনটাই দাবি করছেন ভোট কর্মীরা

অন্যদিকে লোকসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে কমিশনকে চিঠি লেখার সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো জানানো হয়েছে  সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমেও রীতিমতো সরব হয়েছে শিক্ষক মহল। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ,সেখানে শিক্ষকদের সংঘটিত করে দাবিকে আরো জোরদার করা হয়েছে শিক্ষকদের তৈরি একটি ফেসবুক গ্রুপে  কারা কারা কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোটের কাজে যেতে চান আর কারা চান না সম্প্রতি জানতে চাওয়া হয়।বিভিন্ন হোয়াটস অযাপ গ্রুপেও তারা তাদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ! শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘‘আমরা ভোটের কাজে আমাদের দায়িত্ব মোটেই এড়িয়ে যেতে চাইছি না। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার আশ্বাস না-দিলে আমাদের জীবন সংশয় হতে পারে। সেই সঙ্গে মর্যাদাহানিরও আশঙ্কা থাকছে বলে মনে করছি আমরা।”

এবিটিএ- কলকাতা জেলা শাখার সম্পাদক প্রিয় নিয়োগী বলেন “বিগত কয়েকটি নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক সমাজ আর রাজ্য সরকারের নিরাপত্তার উপর ভরসা করতে পারছেন না ! ভোটকর্মী রাজকুমার রায়ের বেদনাদায়ক স্মৃতি সকলকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ! রাষ্ট্রের দায়িত্ব ভোট কর্মীদের জীবনের  নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ! আর রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন কে ! কিন্তু ভোটকর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনিক এবং পরিকল্পিত উদাসীনতায় আমরা বিচলিত !” অন্য একটি শিক্ষক সংগঠন, পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতি র সাধারণ সম্পাদক নবকুমার কর্মকারও বলেন, ‘‘আমরাও ভোটের কাজে শিক্ষকদের নিরাপত্তা চাই। আমরা কেউই চাই না, কোনও শিক্ষকের পরিণাম রাজকুমার রায়ের মতো হোক।”

প্রসঙ্গত শিক্ষক রাজকুমার রায় গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের একটি বুথে প্রিসাইডিং অফিসার ছিলেন। ভোটের দিন তিনি রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন। পরের দিন রেললাইনের উপর থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এখনও সেই  মৃত্যু রহস্যের সমাধান হয়নি। তার পরিবার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পান নি বলে অভিযোগ রয়েছে । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোট কর্মীরা তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসক জেলা নির্বাচন আধিকারিক অরবিন্দ কুমার মিনা জানিয়ে দিয়েছেন ভোটের কাজে না গেলে শিক্ষকদের বেতন কাটা হবে স্বাভাবিকভাবেই সেই বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু ভোট কর্মী রা সেই হুমকি উপেক্ষা করেও প্রতিবাদে অনড় । তারা উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়া ভোট গ্রহণে কিছুতেই যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ।

পাশাপাশি মঙ্গলবার রায়গঞ্জে ভোটের কাজের তিনটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিক্ষোভ দেখান সরকারি ভোট কর্মীরা,তাদের দাবি প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা  নিশ্চিত না করা হলে তারা প্রশিক্ষণ নেবেন না। বেলা এগারোটা থেকে দফায় দফায় তাদের বিক্ষোভ চলে।একইভাবে ইসলামপুর হাইস্কুলে বিক্ষোভে সামিল হন ভোট কর্মীরা। রায়গঞ্জের বিদ্যা চক্র স্কুল, সারদা বিদ্যামন্দির, রায়গঞ্জ সুরেন্দ্রনাথ কলেজে দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণ ছিল। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক তথা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অচিন্ত্য মন্ডল বলেন, ভোট কর্মীরা নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। তাদের প্রশিক্ষণ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে এরকম ভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতে ভোট কর্মীরা তাদের নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনে সমবেত হয়েছেন রাজ্য কোঅর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদক বিজয়শন্কর সিনহা ও মূখ্য নির্বাচন আধিকারিক কে ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা র দাবী তে চিঠি দিয়ে আলোচণার জন্য সময় চেয়েছেন।

এদিকে বিশ্ব্স্ত সূত্রের খবর তৃণমূলের অভ্যন্তরীন সমীক্ষা রিপোর্টে ২৪ বা তার কম আসন পাওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট। আর তাই ভয় পেয়ে তৃণমূল সুপ্রীমোর নির্দেশ যে ভাবেই  হোক ৩৪ টা আসন সুনিশ্চিত করতেই হবে! আর সেই লক্ষ্যে বি.জে.পি কে ৬-৮ টি আসন উপহার দেওযার বিনিময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এর হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার বোঝাপড়া হযেছে বলে শোনা যাচ্ছে! ২০১৪ সালের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী বেদী ভবনে মোবাইলের সুইচ বন্ধ করে ঘুমিয়ে থাকে যখন  তৃণমূলের দুষ্কৃতি বাহিনী একের পর এক বুথ দখল ও ছাপ্পা ভোট এর মাধ্যমে নির্বাচন কে প্রহসনে পরিনত করে।

 মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা কলকাতায় এসে বলেছিলেন রাজ্যের সব বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। গত ২৯ শে মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক আরিজ আফতাব জানিয়েছিলেন রাজ্যের সব বুথে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে! বুধবার কলকাতার ব্রিগেডের সভামঞ্চে এসে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ভোটে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলছে না।রাজ্যে প্রথম দফার ভোট উত্তরবঙ্গে কোচবিহার আলিপুরদুয়ারে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ৩৯ কোম্পানির বাহিনী রাজ্যে এখন রয়েছে। এদিন আরো ১০ কোম্পানির বাহিনী পাঠানোর কথা কমিশন জানিয়েছেন রাজ্যকে। কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে বুথ, কুইক রেসপন্স টিম এবং স্ট্রংরুম ছাড়া কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। এখনও পর্যন্ত তেমনই পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। ফলে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত বাকি নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ভার থাকছে রাজ্য পুলিশের হাতে। এ ছাড়াও ফ্লাইং স্কোয়াড ও স্ট্যাটিক সার্ভিলেন্স টিমেও রাজ্য পুলিশের কর্মীরাই থাকবেন বলেই খবর। পাশাপাশি, কন্ট্রোল রুম এবং ভোটসামগ্রী নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোটের পরে তা জমা দেওয়া (ডিসিআরসি)-র সময়েও নিরাপত্তার দায়িত্ব যেতে পারে রাজ্য পুলিশের হাতেই। এ ছাড়াও প্রার্থীর নিরাপত্তা, ভিআইপি এসকর্ট বা পর্যবেক্ষকের এসকর্টের দায়িত্বে থাকবেন রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র কর্মীরা। এই দুই রাজ্য আন্ত:দেশীয় সীমানা ও বহির্দেশীয় সীমানা র জন্য বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে । ছিটমহলের ভোটাররা রযেছেন যারা এদেশের সরকার গঠণে এই প্রথম ভোট দেবেন।  এই সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করেও কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না সে নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বাস্তবে তার সঙ্গে বিস্তর ফারাক !

যে বিজেপি নেতারা রাজ্যের প্রতিটা বুথ কে স্পর্শকাতর ঘোষণা করার দাবী করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে অতি স্পর্শকাতর ঘোষণা করে সবার শেষে ভোট নিতে দাবী জানিয়েছিলেন তারা এখন চুপ হয়ে গেলেন কেন সেই প্রশ্ন উঠছে!

তাহলে কি দিদি ভাই মোদী ভাই সেটিং হয়ে গেছে ? এই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী রা।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+