May a good source be with you.

পশ্চিমবঙ্গ: ভোট মিটতেই তাণ্ডব শাসকদলের; আক্রান্ত বামফ্রন্টের কর্মী-সমর্থকরা

রাজ্যের শেষ দফার নির্বাচনে যে নয়টি লোকসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো সেই অঞ্চলগুলি থেকেই এই ধরনের হিংসার খবর বেশি মাত্রায় লক্ষ্য করা গেল।

রাজ্যের সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আতঙ্কিত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা থেকে শুরু করে কর্মী সমর্থকরা । যে আশায় আলো দেখেছিলেন তা অনেকটাই ক্ষিন হয়ে যেতে দেখে মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। তাই দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে হিংসার পথে নেমে আসে শাসকদলের কর্মী সমর্থকরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থক দের ধরে মারধর করে আক্রান্ত করা ও পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা দেখা গেল বিভিন্ন জায়গায়।

রাজ্যের শেষ দফার নির্বাচনে যে নয়টি লোকসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো সেই অঞ্চলগুলি থেকেই এই ধরনের হিংসার খবর বেশি মাত্রায় লক্ষ্য করা গেল। খড়দহ থেকে রাজারহাট, বসিরহাট থেকে হাসনাবাদ, এছাড়াও ডায়মনহারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গা দেখা গেল একই চিত্র।

সপ্তম দফার নির্বাচন শেষ হতে না হতেই দমদম লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে বামপন্থী কর্মীসমর্থকরা। রবিবার ভোট শেষে খড়দহ থেকে রাজারহাটে একাধিক বুথে সিপিএম এর এজেন্ট কর্মী ও নেতাদের আক্রান্ত হতে হয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে। খড়দহ অঞ্চলের প্রবীণ সিপিআইএম নেতা রিন্টু মৈত্রকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করে, তাকে মারধরও করা হয়, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লাগে তাঁর। কামারহাটি বেলঘড়িয়া দেশপ্রিয়নগর এর বেশ কিছু সিপিআইএম পার্টিকর্মীর বাড়ি ভাঙচুর সহ স্থানীয় পার্টি অফিস ভাঙচুর করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। শুধু আক্রমণ করেই থেমে থাকেনি তারা, বাড়িতে গিয়েও হুমকি দেওয়া হয় বামফ্রন্টের পার্টিকর্মীদের। এই সমস্ত ঘটনার পরে সিপিআইএমের পক্ষ থেকে পুলিশকে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ প্রশাসন। চিহ্নিত করে দেওয়া সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে।

অন্যদিকে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেল বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র। এখানেও তৃণমূল কংগ্রেসের  দুষ্কৃতীদের বেপরোয়া হামলা ও হুমকি, ভয় দেখানো সবই চলল বামফ্রন্ট কর্মী সমর্থকদের উপর। সিপিআইএম কর্মীসমর্থকদের অপরাধ এই লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী পল্লব সেনগুপ্তের হয়ে কেউ হয়তো বুথ এজেন্ট হয়েছিলেন আবার কেউ হয়তো বুথের বাইরে বামফ্রন্টের অন্যান্য কাজ সামলাছিলেন। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেল অন্যান্য বুথ গুলিতেও। কোথাও মারধর কোথাও ভাঙচুর কোথাও বা প্রাণনাশের হুমকি। সবকিছুই সহ্য করতে হচ্ছে বামফ্রন্টের কর্মীসমর্থকদের।

 ডায়মনহারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গেল সিপিআইএমের কর্মী সমর্থকদের উপর অত্যাচার এবং তাদের দোকান ঘর ভাঙচুর চালাই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ তৃণমূল বাহিনী তাদেরকে ভোট দিতে যেতে বারণ করেছিলেন, কিন্তু বামফ্রন্ট আমাদের সাহস যুগিয়ে ভোট দিতে সাহায্য করেছেন। তার জন্যই তাদের বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কে হুমকি দেওয়া থেকে শুরু করে মারধর করা হচ্ছে। পুলিশের কাছে এই খবর জানালে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। সোমবার ফলতাই এ ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় আতঙ্কিত ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এ সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন সিপিএমের কর্মী সমর্থকরা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা তো দূরের কথা কোন রকম ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি পুলিশ প্রশাসন। রাজ্য সরকারের এই প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। আর এই কারণেই আতঙ্কিত বিভিন্ন এলাকার মানুষজন।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+