May a good source be with you.

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে চিন্তিত শিক্ষামহলের বিদ্যজনেরা

আইসিএসইতে পাশের হার ছিল ৯৮.৫৪ শতাংশ, মাধ্যমিকের পাশের হার ৮৬.০৭ শতাংশ, এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে দুই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কতটা ফারাক।

মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বেরোনো কে কেন্দ্র করে শিক্ষামহলে শুরু হয়েছে নানান বিতর্ক। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের যে পরিমাণে নম্বর দেওয়া হয়েছে তাতে অনেকেই মনে করছেন সর্বভারতীয় বোর্ডগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। তাতে ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞানের ভান্ডার কতটা বাড়বে তার চিন্তা না করে, মার্কশিটে তাদের নম্বর কতটা বাড়ানো যায় সে নিয়ে চিন্তায় পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম স্থানাধিকারী প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.১৪ শতাংশ, অন্যদিকে আইসিএসই তে দশম শ্রেণীর প্রথম স্থান অধিকারী প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৯৯.৬০ শতাংশ। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে সর্বভারতীয় বোর্ড গুলির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কিভাবে পাল্লা দিয়ে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। পাল্লা দিয়ে ৯৮ শতাংশ বেশি নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় হলেও, পাশের হারে অনেকটাই পিছিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ছাত্রছাত্রীরা। আইসিএসইতে মোট পাশের হার ছিল ৯৮.৫৪ শতাংশ, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এবারের মাধ্যমিকের পাশের হার ৮৬.০৭ শতাংশ। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সর্বভারতীয় বোর্ড গুলির শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে ফারাক কতটা।

মঙ্গলবার মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গাঙ্গুলি জানিয়েছেন এবারের মাধ্যমিকে যে ছাত্র প্রথম হয়েছে তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ৭০০ মধ্যে ৬৯৪। মাত্র ৬ নম্বর না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও খুব শীঘ্রই কোন না কোন ছাত্র বা ছাত্রী মাধ্যমিকে ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়ে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

শিক্ষাবিদ দেবাশীষ সরকার অবশ্য বলেছেন প্রশ্নপত্রের ধাঁচ পরিবর্তন করে যদি নম্বর বেশি ওঠে তাহলে তাতে আপত্তি যেমন নেই, তেমনি মনে রাখতে হবে নম্বর বাড়ার সাথে সাথে সেই ছাত্রের জ্ঞান ও  সমান তালে বাড়ছে কিনা! এই দুয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে নম্বর বাড়ানোর দৌড়ে সমাজের বৃহৎ অংশের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আঙিনা থেকে দূরে সরে যাবে।

নম্বর বাড়ানোর প্রশ্নে শিক্ষক মহল মনে করেন যদি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ছেলে-মেয়েরা ৮০% নম্বর পেয়েও সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়েন, সে ক্ষেত্রে এই প্রশ্নপত্রের ধাঁচ পরিবর্তন মূল্যহীন হয়ে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে  নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পাইনের মতে পড়ুয়াদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার মধ্যে দিয়েই জ্ঞান ও নম্বর উভয়ই বাড়ে, এটাই সর্বশেষ বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। এটা পরিবর্তন করেছেন বর্তমান সরকার। গত তিন বছর ধরে যে পরিমাণ নম্বর উঠেছে, তাতে বেশ কিছু ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, বেড়েছে মানসিক চাপ এবং তাতে শিক্ষা ব্যবস্থা টা কিছুটা হলেও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এভাবেই বিগত কয়েক বছর ধরে মাধ্যমিকের গুরুত্ব ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে বলে মনে করছেন তিনি।

এভাবেই দিনের পর দিন পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন না করে, শুধু মাত্র সর্বভারতীয় বোর্ডগুলির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার লক্ষ্যে যেভাবে সহজ পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নম্বর পাইয়ে দেওয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তর, সে নিয়ে চিন্তায় পশ্চিমবঙ্গের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষামহল।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+