May a good source be with you.

পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচন: কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবস্থা রাজ্য পুলিশের থেকেও খারাপ

পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচনে অবাধ এবং নিরপেক্ষ ভোটের প্রহসনে নির্বাচন কমিশন ও তার কেন্দ্রীয় বাহিনী।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফার পরিসমাপ্তি দেখা গেল। নিরপেক্ষ ও অবাধ ভোটদানের ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন কমিশন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কোন ভাবেই রাখতে পারলেন না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

প্রথম দফা থেকে শুরু করে পঞ্চম দফার নির্বাচন শেষ হলেও রাজ্যের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও উত্তেজনা যেভাবে দেখা গিয়েছে, তাতে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুরোপুরি ভাবে ব্যর্থ কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ যেভাবে প্রতিরোধ করছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে বর্তমান শাসক দলের বিপক্ষে যেতে চলেছে অনেকেই। নিজের ভোট নিজে দেওয়ার ক্ষেত্রে, অনেকটাই প্রতিরোধের চেহারা নিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।
নিরাপত্তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে বড় বড় কথা বলেছেন তা যে কোনটাই ফলপ্রসূ হয়নি এই পঞ্চম দফার নির্বাচনের শেষে তা সকলেই দেখলেন। ছাপ্পা, বুথ জ্যাম, ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ভোটারদের বাধা দেওয়া — সব মিলিয়ে শাসকদলের কর্মী সমর্থকেরা যে তাদের এক ভয়ঙ্কর রূপ দেখালেন, তাতে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।

গুলিবিদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ। প্রার্থীদের গায়েও হাত পড়েছে কিন্তু তাও নির্বিকার কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর এই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কোথাও বা ভয় দেখিয়ে, আবার কোথাও অধিক পরিমাণে আপ্যায়ন করে তাদের কর্মসূচি থেকে বিরত রাখলেন তৃনমূলের কর্মী-সমর্থকরা। যাতে তাদের অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যেভাবে ভোট ক্রিয়া-কলাপ চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে যেন বাধা সৃষ্টি না করতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এখনো পর্যন্ত এই সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে অনেকটাই কাঠের পুতুলের মত কাজ করল নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুধুমাত্র সাজানো আছে, প্রতিক্রিয়া নেই।

রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা না করে পুরোপুরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে সরব হলেও শেষমেশ দেখা গেল কেন্দ্রীয় বাহিনী অবস্থা রাজ্য পুলিশ এর থেকেও খারাপ। বিভিন্ন বুথে দেখা গেল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের হয়েই কাজ করছেন সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, ও বিএসএফ জাওয়ানরা।

কোথাও সেরকম প্রতিরোধের বা তৃণমূল দুষ্কৃতীদের বাধা দেওয়া ও বেআইনি ভোট পদ্ধতি থেকে বিরত করার কোন ভূমিকাই দেখায়নি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

প্রথম দুই দফার নির্বাচনের পর থেকেই বামফ্রন্ট কর্মী-সমর্থকেরা বুঝতে পেরে গেছেন যে তৃণমূল এবং বিজেপি একই সাথে কাজ করছে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনাকে সামনে রেখে তারা বিরোধিতা করছে বলে জানালেও আখেরে তৃণমূল সরকার কে নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একই সাথে কাজ করছেন। ফলে বিপাকে পড়েছে বিরোধী দলগুলি।

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নামেমাত্র ভয় দেখিয়ে বা মদ খাইয়ে আপ্যায়ন করে যে কোন লাভ হবে না তা বুঝতে পারেছেন বামপন্থীরা। তাদের দাবি মানুষ সচেতন, তারা প্রতিবাদ করতে শিখেছে, তাই যতটা সম্ভব এগিয়ে আসছে নিজের ভোট নিজে দিতে।

বিভিন্ন বুথে বামফ্রন্ট কর্মী-সমর্থকরা ও সাধারণ মানুষ যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে আগামী দিনে অনেকটাই পরিবর্তনের পরিবর্তন আসবে। তারই ফলস্বরূপ বিভিন্ন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে প্রথম থেকে পঞ্চম দফা নির্বাচনের শেষে।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+