May a good source be with you.

পশ্চিমবঙ্গ: ষষ্ঠ দফা নির্বাচনে উত্তপ্ত মেদিনীপুর; বিক্ষিপ্ত অশান্তি অন্য জেলায়

রাজ্যে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বুথগুলিতে।

সোমবার ষষ্ঠ দফা নির্বাচনে সব থেকে বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা। যে ৮টি কেন্দ্রে এদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল তার মধ্যে সবথেকে বেশি সংঘর্ষ ও অশান্তির খবর পাওয়া গেল ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে। এছাড়াও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত  ঘটনা ঘটলেও তৃতীয় দফা নির্বাচনে যে রক্তের দাগ লেগেছিল তারই কিছুটা প্রতিচ্ছবি দেখা গেল এই ষষ্ঠ দফা নির্বাচনে। চলল গুলি, ছাপ্পা ও বুথ দখলকে ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির বিভিন্ন কেন্দ্রে দফায় দফায় সংঘর্ষ।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ১০০% নিরাপত্তার মধ্যেও কেন এই ধরনের সংঘর্ষ ও অশান্তির খবর বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিরোধী দলের এজেন্টকে বুথে বসতে না দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের হুমকি, ভয় দেখানো ও প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ, সব মিলে এই ষষ্ঠ দফা নির্বাচনে হিংসার ছবি উঠে আসে।

এদিন সব থেকে বেশি শতাংশ ভোট পড়েছে ঝাড়গ্রামে। প্রায় ৯০ শতাংশ। গত রাতে ঘটে যাওয়া বিজেপি কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে সংশয় থাকলেও মোটের উপর ঝাড়গ্রামে ভোট শান্তিপূর্ণ বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশন। অপরদিকে বাঁকুড়া জেলায় বহিরাগতদের দাপাদাপিতে রীতিমত বিক্ষোভে সামিল হয় বিজেপি। আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি এদিন বাঁকুড়ার বিভিন্ন বুথে অবাধে ঘুরে বেড়াতে দেখে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি।

গড়বেতায় দেখা গেল বুথ দখল কে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ। সাধারণ গ্রামবাসী এদিন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের প্রতিরোধ করে। মোটের ওপর এই ৮টি কেন্দ্রে দেখা গেল কেন্দ্রীয় বাহিনী যেগুলিতে একটু সক্রিয় সেগুলি ছাড়া প্রায় সব বুথে দেদার ছাপ্পা ও বুথ দখলের খবর পাওয়া গেল তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

একই ঘটনা ঘটতে দেখা গেল মেদিনীপুরের ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ, প্রাক্তন আই পি এস তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কর্মী সমর্থক। রাজ্য পুলিশ রাস্তায় আটক করে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষকে। নির্বাচনী কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ তিনি পর্যাপ্ত পরিমাণ কাগজপত্র ছাড়াই গাড়ি নিয়ে নির্বাচনের কাজে বেরিয়েছে।

অপরদিকে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী নিয়ম লংঘন করার অভিযোগে ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে এফ আই আর করে। চারিদিক থেকে এদিনের নির্বাচনে প্রাক্তন আই পি এস ভারতী ঘোষ কে শাসকদলের কর্মী সমর্থক ও রাজ্য পুলিশের দ্বারা চরমতম হেনস্তার শিকার হতে হয়।

মোটের উপর দেখা যাচ্ছে জঙ্গলমহলের ভোট অনেকটাই শান্তিপূর্ণ, দুই একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া। কারণ এই অঞ্চলেই বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধে অনেক খোব  লুকিয়ে আছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আর তারই বহিঃপ্রকাশ এদিন লক্ষ্য করা গেল। ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বুথ গুলিতে। সাধারণ মানুষ এবার বুঝতে শিখেছে, প্রতিরোধ করছে। মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার অঙ্গিকার বদ্ধ হয়ে বামফ্রন্ট কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। যতই অত্যাচার অন্যায় করুক শাসক দল এবার পরিবর্তনের পরিবর্তন চেয়ে প্রতিরোধের রাস্তায় নামছেন বামফ্রন্ট সমর্থিত লোকজন।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+