May a good source be with you.

পশ্চিমবঙ্গ: নির্বাচনী প্রচারে রবি ঠাকুরকে নিয়ে টানাটানি বিজেপি তৃণমূলের

রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে, মোদী ও মমতা দুজনের প্রচারে রাজনৈতিক স্লোগানে ঢুকে যায় কবিগুরুর নাম।

কখনো চড় থাপ্পড় বা কখনো কান ধরে উঠবস। আবার কখনো তৃণমূল কর্মীদের মাফিয়া বলে সম্মোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রচার এক রকম জমে উঠেছে মমতা-মোদির মধ্যে। আর তারই মাঝে গুরুদেব কে নিয়ে টানাটানি শুরু করলো এই দুই রাজনৈতিক দল। এই নিয়ে চিন্তায় পড়েছে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ। তাদের নির্বাচনী প্রচারে, রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িতে গুরুদেব কে এনে, তাকে শ্রদ্ধা দেখানোর নামে রাজনৈতিক মঞ্চে তাকে নিয়ে এ ধরনের কার্যকলাপকে অনেকেই ঠিক চোখে দেখছেন না।

রবিবার ষষ্ঠ দফা নির্বাচনকে ঘিরে যে ৮ টি কেন্দ্রে লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তার জন্যে প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একের পর এক জনসভা করে চলেছেন।

এদিন  ২৫ শে বৈশাখ নরেন্দ্র মোদি বাঁকুড়াতে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরুলিয়াতে নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যে জনসভা করেন। স্বভাবতই পঁচিশে বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম দিবস উপলক্ষে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে কোনরকম খামতি রাখিনি দুই দল।

নরেন্দ্র মোদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের কর্মীদের কয়লা মাফিয়া বলে আক্রমণ করলেন, এবং কয়লা মাফিয়ারা তৃণমূল সরকারের কাছে টাকা পাঠায় বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার মা, মাটি, মানুষের চিন্তা না করে, শুধু নিজের গদি, নিজের আত্মীয়, নিজের ভাইপো, ও নিজের তোলাবাজদের নিয়ে চিন্তা করেন। আর কারো খেয়াল তারা করেন না।

অপরদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেছেন, তৃণমূলের কোন প্রার্থী যে কয়লা মাফিয়া, এটা যদি প্রমাণ করে দিতে পারেন তাহলে দলের ৪২ জন প্রার্থী কে তিনি প্রত্যাহার করে নেবেন।পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি তিনি প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে সবার সামনে ১০০ বার কান ধরে উঠবস করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে।

বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া নির্বাচনী প্রচারে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে একে অপরের দিকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করতে শুরু করলেন তাতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ২৫শে বৈশাখের জন্মতিথিকে অবমাননা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। কারণ এদিন তাদের দুজনেরই প্রচারের শুরুতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়।

নরেন্দ্র মোদি বলেছেন গুরুদেবের কথা তুলে, মন ভয় মুক্ত হোক। মাথা সম্মানের সঙ্গে উঁচু থাকুক। কিন্তু কংগ্রেস, কমিউনিস্ট এবং দিদি গুরুদেবের এই শিক্ষা ভেঙেচুরে ফেলেছেন। অপরদিকে পুরুলিয়ায় এই মন্তব্যের কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন তিনি খুব সহজ দুটো লাইন মুখস্ত করে এসেছেন। আর তো কিছু জানেন না, এই বলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশ কিছু কবিতা ও আবৃত্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুনিয়ে দিলেন সাধারণ জনগণকে।

রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন উপলক্ষে মোদী ও মমতা দুজনের প্রচারে রাজনৈতিক স্লোগানে ঢুকে যায় কবিগুরুর নাম। কখনো বলেন, গুরুদেব অমর রাহে। বাঁকুড়ায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে মাল্যদান করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আর পুরুলিয়াতে নরেন্দ্র মোদি গুরুদেবের ছবিতে মাল্যদান করে বলেন গুরুদেবের শুভ জন্মতিথিতে প্রার্থনা করি বাংলা পূর্ণ হোক ,বাংলাতে শান্তি ফিরে আসুক। মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি এ কথা বলেন।

মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী বিপ্লব ভট্টের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে এদিন সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য বিমান বসু অবশ্য বলেন তৃণমূল ও বিজেপির লোক দেখানো লড়াই। যদি তাই হত তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে কুর্তি পাঠান, পশ্চিমবঙ্গের মিষ্টি পাঠান এবং আম পাঠান, তাহলে এগুলো কি?

বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাদের লড়াই হলেও, অন্তর্নিহিত এদের মধ্যে সমঝোতা আছে বলেই মনে করছেন পলিটব্যুরো সদস্য বিমান বসু। এদিন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে পাশাপাশি জালিওনাবাগ এর হত্যাকাণ্ডের ১০০ বছর  উল্লেখ করেন তিনি আরো বলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করে নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। ঠিক সেরকম ভাবেই সবাই মিলে প্রতিবাদের ঝড় তুলে লোকসভায় বামপন্থীদের পাঠাতে হবে, এমনটাই আবেদন করে জনসাধারণকে আহ্বান করেন কেশিয়াড়ির জনসভায়।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+