May a good source be with you.

পশ্চিমবঙ্গ: পঞ্চম দফা নির্বাচনে রাজ্যে সংঘর্ষের চেহারা

তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা যেভাবে অনৈতিক পদ্ধতি দিয়ে ভোট গ্রহণ চালিয়েছে তাকে বাধা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই।

প্রথম চার দফার নির্বাচনের পরে সোমবার পঞ্চম দফা নির্বাচনে রাজ্যের লোকসভা নির্বাচন উৎসবের চেহারাটা  একটু অন্যরকম। কলকাতার আশেপাশে যে ৭টি কেন্দ্রে এদিন ভোটগ্রহণ ছিল তাতে সকলেই ছিল আতঙ্কিত। কারণ এই সাতটি কেন্দ্রকে ঘিরে যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছিল রাজনীতি মহলে তা প্রকাশ পেল ভোটের দিন সকাল থেকেই। এই ধরনের গন্ডগোলের আশঙ্কা জেনে নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই সমস্ত বুথগুলিতে ১০০% নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থার চেষ্টা করলেও কিছু কিছু জায়গায় প্রচন্ড গন্ডগোলের খবর পাওয়া যায় এদিন।

যে ৭টি লোকসভা কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠান সোমবার অনুষ্ঠিত হলো সেগুলি হল— বনগাঁ, ব্যারাকপুর, হাওড়া, উলুবেড়িয়া, শ্রীরামপুর, হুগলি, আরামবাগ। সব মিলিয়ে মোট ১৩ হাজার ২৯০টি বুথে এদিন ভোট গ্রহণ করা হয়।

প্রত্যেকটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বলে নির্বাচন কমিশন জানালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেল স্থানীয় থানার ওসিকে গুরু দায়িত্ব পালন করতে। আর সেখানেই শুরু হয়েছে বিপত্তি।

পুলিশ প্রশাসনের সমর্থনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের যেভাবে ভোট লুট ও ছাপ্পা দেওয়া থেকে শুরু করে বুথ জ্যাম সকল প্রকার অনৈতিক ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে চলছে তাকে বাধা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই।

এদিন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বেশিরভাগ বুথে দেখা গেল প্রচন্ড মাত্রায় গন্ডগোলের খবর। ব্যারাকপুর বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং এর গাড়ি ভাঙচুর থেকে শুরু করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় অর্জুন সিং এর। ব্যারাকপুর এর বিভিন্ন বুথে ছাড়াও নৈহাটির বিজয়নগর জগদ্দল এবং হুগলিতে তৃণমূল ও বিজেপি খন্ড যুদ্ধ এই পঞ্চম দফার নির্বাচনকে অনেকটাই কালিমালিপ্ত করল।

পঞ্চম দফা নির্বাচনের এই ধরনের বেশ কিছু ঘটনাকে সামনে রাখলে বোঝা যায় রাজ্যের পরিস্থিতি এখন কোন পর্যায়। কারণ যে ৭টি কেন্দ্রের এদিন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল তাতে দেখা গিয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূলের বিভিন্ন জায়গায় মতবিরোধ ও সংঘর্ষ লেগেছিল। যেমন বনগাঁর একই পরিবারের দুজন, একজন বিজেপির প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর এবং অপর জন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বালা ঠাকুর। এদের দুজনের রেষারেষি সারা রাজ্যের কানে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে।

অপরদিকে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অর্জুন সিং বিজেপির ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীর মধ্যেও প্রচন্ড পরিমানে রেষারেষি। বেশিরভাগ বুথই এদিন তৃণমূলের অধীনে থাকায় অর্জুন সিং  সারাদিন ধরে বিভিন্ন বুথে ঘুরে বেরিয়ে কোনরকম ব্যবস্থা নিতে পারলেন না বললেই চলে। আবার হুগলিতে দেখা গেল লকেট চ্যাটার্জির প্রতিবাদী রূপ। আসল কথা তৃণমূলীরা যে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হবার চেষ্টা করছেন তা মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। আর তাকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে এই ধরনের সংঘর্ষ। যদিও বামপন্থী সংগঠনের কর্মীরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন নিজের ভোট নিজে দেওয়া এই নীতি কে বাস্তবায়িত করতে। আর সেই ধরনের সমস্ত রকম ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত বামপন্থী কর্মী সমর্থকরা।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+